53 বার প্রদর্শিত
"ইসলাম ধর্ম" বিভাগে করেছেন

হিন্দু মুসলিম সকল শ্রেণীর মানুষ  ভ্যালেনটাইন অথবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান নিয়ে মেতে থাকে  এই  অনুষ্ঠান গুলো ইসলামিক ভাবে পালন করা কী জায়েজ/  এই সম্পর্কে ।ইসলাম কী মত ব্যক্ত করেছেন বিস্তারিত ভাবে জানতে চাই?

1 উত্তর

0 পছন্দ 0 জনের অপছন্দ
করেছেন
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর

নানা রকম কাহিনীর মধ্যে সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডের মাহাত্ম্য আজ নিঃশেষ হতে চলেছে। প্রচলিত ঘটনার বর্ণনায় বিকৃতি ঘটেছে। খ্রিস্ট ধর্মের বাতাবরণের প্রধান কাহিনীর পরিবর্তে নানা আজগুবি ঘটনা জায়গাজুড়ে বসেছে। রোমান সাম্রাজ্যের সেই খ্রিস্টান ধর্মযাজক বা সন্তের আত্মোৎসর্গের কাহিনী অনুসারে বিশ্বজুড়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেনটাইনস ডে উদযাপিত হলেও ভ্যালেনটাইনের ধর্মভাবনা ও শিক্ষা সম্পর্কে আমরা তেমন কিছুই জানি না। 

ভ্যালেনটাইন ছিলেন পাদরি এবং একই সঙ্গে চিকিৎসক। তখন খ্রিস্টীয় বর্ষের সাড়ে দ্বিশতক অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু দেব-দেবীর পূজা রোমানদের ধর্মীয় জীবন থেকে অপসৃত হয়নি। অবশ্য খ্রিস্ট ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল সে সময়। খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কথিত আছে তিনি যখন জেলে বন্দি ছিলেন তখন শিশু-কিশোররা তাঁকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জেলের জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দি অবস্থায় চিকিৎসা করে জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন সেন্ট ভ্যালেনটাইন। মেয়েটির সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান, ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। তাঁর মৃত্যুর পর খ্রিস্ট ধর্মের প্রসার ঘটে। 

ভ্যালেনটাইন দিবসের শিক্ষা হচ্ছে অন্যায় ও অত্যাচার বন্ধ করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্র যিশুর আদর্শ থেকে শিক্ষা ও পদক্ষেপ নিবে। যিশুর কয়েকটি শিক্ষাকে একসঙ্গে দেখে ব্যবহার করতে হবে। যেমন- ক্ষমা করা, দুষ্টের জন্য বা শত্রুর জন্য প্রার্থনা করা, মন্দকে উত্তমতা দেখানো, প্রতিশোধ না নেওয়ার মতো শিক্ষাগুলোকে একসঙ্গে নিতে হবে। যেমন, আমরা ক্ষমা করলে, প্রতিশোধ নিতে পারি না। কারো জন্য প্রার্থনা করলে তার অমঙ্গল চাইতে পারি না। বিনম্রতা দেখালে সহিংস হতে পারি না। কাউকে প্রেম করলে ঘৃণা করতে পারি না। রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যায়-অত্যাচার এবং জোর-জুলুমকে মোকাবিলায় যিশুর আদর্শ অনুযায়ী করণীয় ঠিক  করতে হবে। যিশু খ্রিস্ট কি আদর্শ দেখিয়েছেন? তিনি তাঁর প্রতি করা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিনম্রতা দেখিয়েছেন ও প্রতিরোধ করেননি বা প্রতিবাদ করেননি। পবিত্র বাইবেলের পুরাতন নিয়ম যিশাইয় ৫৩ : ৭-৯ পদে রয়েছে, “তিনি উপদ্রুত হলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করলেন, তিনি মুখ খুললেন না; মেষশাবক যেমন হত হওয়ার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরব হয়, সেরূপ তিনি মুখ খুললেন না। তিনি উপদ্রব ও বিচার দ্বারা অপনীত হলেন, তৎকালীয়দের মধ্যে কে এ আলোচনা করল যে, তিনি জীবিতদের দেশ হতে উচ্ছিন্ন হলেন? আমার জাতির অধর্ম প্রযুক্তই তাঁর ওপরে আঘাত পড়ল। আর লোকে দুষ্টগণের সঙ্গে তাঁর কবর নিরূপণ করল এবং মৃত্যুতে তিনি ধনবানের সঙ্গী হলেন, যদিও তিনি দৌরাত্ম্য করেননি, আর তাঁর মুখে ছল ছিল না।

লেখক : অধ্যাপক  এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আপনার বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বা অজানা উত্তরের জন্য বিনামূল্যে আমাদের প্রশ্ন করতে পারবেন। প্রশ্ন করতে দয়া করে প্রবেশ, কিংবা নিবন্ধন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

9.1k টি প্রশ্ন

7.2k টি উত্তর

249 টি মন্তব্য

811 জন সদস্য

প্রশ্ন করুন
ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ সুস্বাগতম, এখানে আপনি আপনার প্রশ্ন করার পাশাপাশি অন্যদের প্রশ্নে উত্তর প্রদান করে অবদান রাখতে পারেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের জন্য সবথেকে বড় এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কাজে।

বিভাগসমূহ

ক্যোয়ারী অ্যানসারস এ প্রকাশিত সকল প্রশ্ন বা উত্তরের দায়ভার একান্তই ব্যবহারকারীর নিজের, কোনভাবেই ক্যোয়ারী অ্যানসারস দায়বদ্ধ নয়।
...